ট্রাকওয়ালা যা তা বলে গালাগালি করলো! কিচ্ছু বলিনি শুধু হা করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম। গালাগালি করার অবশ্য বিরাট কারন আছে!
যাত্রাবাড়ির কাজলা থেকে রাস্তা পার হচ্ছিলাম, ঠিক মতো ডানে-বামে তাকাইনি। আমার আবার দুনিয়ার যতো চিন্তা আর কষ্টের কথা রাস্তা পার হওয়ার সময়ই পরে, তারপর যেটা হলো আরকি, একদম অল্পের জন্য প্রানে রক্ষা পেলাম। ড্রাইভার ট্রাক থামিয়ে নামলো আর ঐযে বললাম একদম ২-৩ মিনিট নিশ্বাস না ফেলে ১৪ গুষ্টি উদ্ধার করলো।
ওনার চোখ দিয়ে পানি পরছে,,,
– মামা আপনার কি দুনিয়াবি কোনো চিন্তা নাই? বাপ-মা নাই? পরিবার নাই?
আছে মামা (মাথা নিচু করে)
– জানেন? আপনার মতন আমার একটা ছেলে আছে। অনেক কষ্ট কইরা মানুষ করতেছি পোলাডারে। একটাই ছেলে। ছেলেটার কিছু আমরা নিঃস্ব হইয়া যামু।
এই ঘটনার পর আমি আর কিছু বলতে পারিনি। ট্রাকওয়ালার চোখের পানি, কণ্ঠের কাঁপুনি, আর কথাগুলো যেন মনের ভেতর ঢুকে আগুন জ্বালিয়ে দিল। সত্যিই তো—আমারও তো বাবা আছে, মা আছে। আর আমি হেঁটে যাচ্ছি যেন আমার কোনো কিছুই হারানোর নেই।
রাস্তায় শুধু গাড়ি চলে না, চলতে থাকে হাজারো পরিবারের আশা, স্বপ্ন, ভালোবাসা।
আমাদের একটা ভুল, একটা মুহূর্তের অসতর্কতা, কেবল নিজের না—পুরো পরিবারের জীবন উলটপালট করে দিতে পারে।
পরিবার আমাদের শক্তি, ভরসা আর ভালোবাসার জায়গা। প্রতিটা সন্তানেরই উচিত পথ চলার সময় শুধু নিজের না, বাবা-মা এবং পরিবারের মুখটাও মনে করা। কারণ আপনি একা কিছু না—আপনার জীবনে আপনি ছাড়া আরও অনেকের ভালোবাসা জড়িয়ে আছে।
সতর্ক থাকুন, নিরাপদে থাকুন। কারণ কেউ একজন প্রতিদিন আপনার ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকে।
জীবনের ট্রাফিক সিগনাল
S a a d ডায়েরি
৩০ – ০৭ – ২০২৫